জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের তৎকালীন আইজিপি ও মামলার রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে মোট ছয়টি অংশ রয়েছে।
মামুনের স্বীকারোক্তি বিবেচনায় দণ্ড কমানো
রায়ে বলা হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তৎকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন আদালতকে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ৩৬ দিনের আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তার এই সহযোগিতা ও স্বীকারোক্তির কারণে সর্বোচ্চ দণ্ডযোগ্য অপরাধ থাকা সত্ত্বেও তার সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড
একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত বলেছে, পলাতক থাকা অবস্থায় এ দণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগ তাদের নেই।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ারও ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেন যে, পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
অভিযোগসমূহ
গত ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়—
1. ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
2. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ
3. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা
4. রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা
গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
