১ ডিসেম্বর ২০২৫:খুলনায় অনুষ্ঠিত ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনা–১ আসনের প্রার্থী হিসেবে দলটির হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় ও জনপ্রিয় জামায়াত নেতা শেখ আবু ইউসুফকে পাশ কাটিয়ে তুলনামূলক কম পরিচিত কৃষ্ণ নন্দীকে প্রাধান্য দেওয়াকে অনেকেই অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী গণমাধ্যম আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বহু অনুসন্ধানে পরিচিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান গতকাল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর হাতে আসা প্রাথমিক তথ্যসূত্রে কৃষ্ণ নন্দীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সীমিত, এবং মনোনয়ন ঘোষণার পেছনে কিছু অস্বাভাবিক তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জুলকারনাইন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, একাধিক সূত্র তাঁকে জানিয়েছে—কৃষ্ণ নন্দীর সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি তিনি স্বয়ং নিশ্চিত করতে পারেননি, তবুও তাঁর মতে, এমন তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি।
জুলকারনাইন আরও জানান, তাঁর হাতে থাকা ফাইল অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে কৃষ্ণ নন্দী বিতর্কিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে একই বৈঠকে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। শেয়ার করা তিনটি ছবিতে দুজনকে একই টেবিলে দেখা যায়, এবং একটি সূত্র এমন দাবি করেছে যে সেই বৈঠকে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা আইবি–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
জুলকারনাইন তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন যে প্রেরিত ছবিগুলো এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করায় মেটাডেটা পাওয়া যায়নি; তবে প্রাথমিক ফরেনসিক বিশ্লেষণে কোনো ধরনের এডিটিং, টেম্পারিং বা এআই–ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উল্লিখিত তারিখে কৃষ্ণ নন্দী ভারতে ছিলেন—ভ্রমণ নথি পর্যালোচনায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে তিনি মোট ২২ বার ভারত ভ্রমণ করেছেন বলেও জুলকারনাইন উল্লেখ করেন।
অভিযোগগুলো নিয়ে জানতে চাইলে কৃষ্ণ নন্দী সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, শেয়ার করা ছবিগুলো “সম্পূর্ণ এডিটেড” এবং শিপন কুমার বসুকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাঁর ভাষ্য, শিপন কুমার বসু সম্প্রতি চাঁদা দাবি করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেছিলেন, এবং সেই কারণেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছবি ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে জুলকারনাইন তাঁর পোস্টের শেষে স্পষ্টভাবে জানান, এসব তথ্য প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ মাত্র, এবং তিনি এগুলো প্রকাশ করেছেন স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। তাঁর মতে, বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি।
খুলনা–১ আসনে মনোনয়নকে ঘিরে জুলকারনাইনের এই প্রকাশিত তথ্য এখন স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় অঙ্গনেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
